বিশ্ব পরিবেশ দিবস

বিমল কান্তি দাশ গুপ্ত 

পরিবেশ হল প্রতিটি বস্তুর সৃষ্টি আর তার টিকে থাকবার প্রাথমিক শর্ত। সে বস্তু সপ্রাণ হতে পারে আবার আপাত নিষ্প্রাণও হতে পারে। শর্তের অর্থাৎ পরিবেশের স্বাভাবিক বদল বস্তুর ওপর স্বভাব বশেই ক্রিয়া করে। বস্তুর বদল ঘটে। আকারে প্রকারে তার স্বভাবেও। এই নিয়ম প্রত্যক্ষ হয় জন্ম বেড়ে ওঠা আর মৃত্যুর চেহারা নিয়ে। এই নিয়ম পরিবেশের নিজের বেলাতেও সত্য। 

র এই সূত্রেই জানা গেছে মানুষের আগমনের আগের অনেক অনেক যুগের কাহিনি। আর সে কাহিনির নিয়ামক ছিল পরিবেশের নিজের স্বভাবে থাকা বিবর্তনের সত্য। রাতের আকাশে দেখা দেয় অসংখ্য আলোর বিন্দু। এই বিমদুগুলির মাঝের শূন্য স্থান ভরে আছে অনন্ত আঁধার। এই আলোর বিন্দুরা হল নক্ষত্র। এদের জন্ম আছে। বৃদ্ধি আছে। মৃত্যু আছে। আঁধার পাথারে এরা যে ছোটাছুটিও করে। সে তো খালি চোখেই দেখতে পাই রাতের আকাশে। এমনই এক নণক্ষত্র আমাদের সূর্য। 

আরও এক বড় নক্ষত্র পাশ দিয়ে যাবার কালে সূর্যকে সঙ্গে নিতে চায়। নারাজ সূর্যের সঙ্গে টানাটানিতে খানিক খোয়া গেলেও ধরে রাখে ছিন্ন অংশ নিজের সীমানায়। আর পৃথিবীরও স্থান হয়ে গেল নক্ষত্রমণ্ডলে। সূর্যের সংসারে। 

সূর্য শক্তি। পৃথিবী ধাত্রী। পরস্পরের মিলনে প্রাণের আবির্ভাব। বায়ূমণ্ডল। জল। উদ্ভিদ। অবশেষে প্রাণী। এই ক্রমের চরম পরিণতি মানব। এক নবীনতম মেধাযুক্ত প্রাণী। স্মৃতি যার প্রখর। অতীত যে দেখতে পায়। বর্তমান যার সংগ্রামের। যে সংগ্রাম পরিবেশকে বশে আনবার সংগ্রাম। কল্পনা যার ভবিষ্যতে ব্রহ্মাণ্ডে একা রাজত্ব করবার। 

বৃহত্তর মানব সমাজের এক অতি ক্ষুদ্র অংশ মানবের একা থাকবার বাসনা। আর সমগ্র সমাজের ওপর খবরদারি ক্রবার উগ্র লিপ্সা আজ শুধু মানব জাতি নয় পৃথিবী নামের গ্রহটারই অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে। পরিবেশের উপর মানবের এক অতি ক্ষুদ্র অংশের অত্যাচার এতটাই প্রকট হয়েছে যে প্রতিরোধের কথা ভাবতে হবে মানব সমাজের বৃহত্তর অংশের মানুষকে। আজকের দিন সেই শপথ নেবার দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। পরিবেশ দূষণকারিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়বার শপথ নেবার দিন হোক আজ।                 

Comments

Popular posts from this blog

তাপ ও সমস্যাবলী

ক্রোকোডাইল আইল্যান্ড